বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী বলে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে চীন ও ইরানের সম্ভাব্য যৌথ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের অন্যতম শীর্ষ বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ সৌরভ মুখার্জিয়া।
মার্সেলাস ইনভেস্টমেন্টের এই প্রতিষ্ঠাতা এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ চীন ও ইরানের হাতে চলে যাওয়া ভারতের জন্য এক দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন, যার বিপরীতে ইরানও পাল্টা ‘নরক’ তৈরির হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তবে সৌরভ মুখার্জিয়ার মতে, এই সংকটের গভীরে রয়েছে এক বৃহত্তর ক্ষমতার লড়াই। তিনি মনে করেন, চীন কৌশলগতভাবে ইরানের সাথে মিত্রতা বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে, যা হবে বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতির ইতিহাসে চীনের জন্য একটি বিরাট ‘অভ্যুত্থান’। এই নিয়ন্ত্রণ এক বা দুই দিনের বিষয় নয়, বরং এটি মাসের পর মাস স্থায়ী হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
কার্নেগি এনডাউমেন্টের গবেষক আবদুল্লাহ বাবাবুদেও এই মতকে সমর্থন করে জানিয়েছেন, চীন বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেল আমদানিকারক দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা থেকেই বেইজিং এখন এই অঞ্চলে তার সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়াতে মরিয়া।
ইতোমধ্যে ২০২১ সালে ইরানের সাথে ২৫ বছর মেয়াদী কৌশলগত চুক্তির মাধ্যমে চীন সস্তায় তেল পাওয়ার পাশাপাশি সেখানে বিশাল বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করেছে। এছাড়া পাকিস্তান, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরে বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা হরমুজ প্রণালির ওপর একটি বিকল্প নিয়ন্ত্রণ বলয় তৈরির চেষ্টা করছে।
এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের জন্য দ্বিমুখী সংকট তৈরি করছে। সৌরভ মুখার্জিয়া উল্লেখ করেন, বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই ভারতের অর্থনীতি মন্থর গতিতে চলছিল। এখন তেলের উচ্চমূল্য, রুপির দরপতন এবং ক্রমবর্ধমান সুদের হারের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।
এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগ ব্যয় এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে, যা সরাসরি শেয়ার বাজার ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তের ভোগ পণ্যের বাজার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং কর্পোরেট মুনাফায় টান পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
