নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের তারিখ আরো পেছাচ্ছে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। চলতি সপ্তাহে নতুন বেতনকাঠামোর গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এর মধ্যে প্রজ্ঞাপনের খসড়া বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানকার প্রক্রিয়া শেষে খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে।

এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং নিয়ে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বরের কথা জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বুধবার রেজল্যুশন বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। সেখানকার প্রক্রিয়া শেষে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সর্বশেষে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘গেজেট প্রকাশে কোনো বিলম্ব করতে চাই না। প্রক্রিয়াগত কারণে যতটুকু সময় লাগছে, সেটুকুই। আশা করছি, চলতি সপ্তাহেই হয়ে যাবে। সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে এর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবারের (৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যে পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা বলা হয়েছিল। তবে প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করতে কিছুটা সময় বেশি লাগছে। পরে নতুন সময়সীমা হিসেবে রবিবারের (৬ সেপ্টেম্বর) কথা জানানো হয়।

অর্থসচিবও জানিয়েছেন, ৬ সেপ্টেম্বরই নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এখন তাই নজর রয়েছে বিজি প্রেস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর শেষ মুহূর্তের কার্যক্রমের দিকে।

এদিকে গত সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকার সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।

বিস্তারিত পর্যালোচনার পর নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমানের বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাও বিবেচনা করা হয়েছে।

অনুমোদিত জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতন স্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

নতুন বেতনকাঠামোয় বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত কমানো হয়েছে। বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ অনুপাত কমিয়ে নতুন বেতন স্কেলে তা ১:১.৭৮ করা হয়েছে। ফলে নতুন বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়বে। আর সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন বাড়বে ১০০ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *