নবম পে-স্কেল অনুমোদন: বেতন সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার, সর্বনিম্ন ২০ হাজার

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নবম পে-স্কেল অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর হবে তিন ধাপে। এতে গ্রেড-১ এ সর্বোচ্চ মূল বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, আর ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা।

সোমবার বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়বে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ। এই বৃদ্ধি একবারে নয়, বাস্তবায়িত হবে তিন ধাপে।

নতুন কাঠামোয় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা। নবম পে-স্কেলের আওতায় প্রথমবারের মতো চালু হতে যাওয়া এই ভাতার পরিমাণ হবে মাসে ৩ হাজার টাকা।

এদিকে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬’-ও একই বৈঠকে অনুমোদন করা হয়েছে।

অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে চেয়ারম্যান করে ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

এরপর কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিই নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত করে।

নবম বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছিল।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে বছরে ব্যয় হয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে আরও প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।

এই বিপুল অর্থের জোগান দেওয়াই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা—যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি তখন বলেছিলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, অথচ এই সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এসব বিবেচনায় নিয়েই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *