ভারতের ৪ প্রতিষ্ঠান ও ৩ নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা

ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের চারটি প্রতিষ্ঠান ও তিন নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির নতুন শুরু করা ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইরানের ইসলামী সরকারের অর্থের উৎস বন্ধ করাই এ অভিযানের লক্ষ্য।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ভারতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পোরটিজ পার্টনার্স এলএলপি, সদাশিবা ওভারসিজ লিমিটেড, পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা তিন ভারতীয় নাগরিক হলেন পোরটিজ পার্টনার্সের দুই অংশীদার হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গি ও ইন্দ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ এবং পিপি সফটটেকের প্রশান্ত গার্গ।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, কাস্টমস ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পোরটিজ পার্টনার্স ইরান থেকে ভারতে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানির চালান আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে।

এ ছাড়া সদাশিবা ওভারসিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অভিযোগ রয়েছে। পিপি সফটটেক ও প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্সের বিরুদ্ধে প্রায় আড়াই কোটি ডলার করে ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য কেনা, সংগ্রহ, বিক্রি, পরিবহন বা বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য লেনদেনে জেনেশুনে জড়িত থাকার কারণে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

একই সময়ে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্য থেকে আয় কমিয়ে দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য।

ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের শুরুতে সতর্ক করে বলেছিল, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছিল।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনে কর্মীদের ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উত্তেজনার কারণে এসব মিশন থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া বা জনবল কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, স্বল্পমেয়াদে ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করার ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। তবে কয়েকটি দূতাবাস শুরুতে সীমিত জনবল নিয়ে কার্যক্রম চালাবে। সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *