ইসলামী বর্ষপঞ্জির নবম মাস পবিত্র রমজান। মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই মাসের তারিখ প্রতি বছর পরিবর্তিত হয়। কারণ, রমজান নির্ধারিত হয় চন্দ্রভিত্তিক হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুসারে নয়।
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যাগত হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর মার্চের প্রথমার্ধে উদযাপিত হতে পারে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
শাবান মাসের শেষ দিকে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৬ বা ৭ ফেব্রুয়ারি রমজানের নতুন চাঁদ দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্যোতির্বিদ্যাগত তথ্য অনুযায়ী, ২৯ শাবান সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে চাঁদ দেখা সম্ভব নাও হতে পারে। ওই দিন চাঁদ সূর্যের আগে অস্ত যেতে পারে কিংবা সূর্যাস্তের পর চাঁদের সঙ্গে সূর্যের সংযোগ ঘটতে পারে।
এ কারণে শাবান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান শুরু হতে পারে।
তবে বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, চাঁদ দেখার সময় এবং অনুসৃত পদ্ধতির পার্থক্যের কারণে রমজান শুরুর তারিখ এক দিন আগে-পরে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের ঘোষণার পরই চূড়ান্ত তারিখ নিশ্চিত হবে।
২০২৭ সালে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ
হিজরি শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলমানরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। ফলে রমজান ২৯ নাকি ৩০ দিনে শেষ হবে, তার ওপর নির্ভর করবে ঈদের তারিখ।
জ্যোতির্বিদ্যাগত হিসাব অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২৭ সালের ৮ মার্চ, সোমবার অথবা ৯ মার্চ, মঙ্গলবার শাওয়ালের চাঁদ দেখা যেতে পারে।
৮ মার্চ সন্ধ্যায় রমজানের ২৯তম দিন শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে পরদিন ৯ মার্চ, মঙ্গলবার ঈদুল ফিতর পালিত হবে। আর ওই দিন চাঁদ দেখা না গেলে রমজান ৩০ দিনে পূর্ণ হবে এবং ঈদুল ফিতর হতে পারে ১০ মার্চ, বুধবার।
বাংলাদেশে কবে শুরু হতে পারে রমজান ও ঈদ?
ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার পার্থক্যের কারণে বাংলাদেশে অনেক সময় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এক দিন পর রমজান ও ঈদুল ফিতর শুরু হয়।ভৌগোলিক ম্যাপ ও গাইড অন্বেষণ করা
সে হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হলে বাংলাদেশে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ৯ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হলে বাংলাদেশে ১০ মার্চ ঈদ হতে পারে।
তবে এগুলো কেবল জ্যোতির্বিদ্যাগত হিসাবের ভিত্তিতে করা সম্ভাব্য তারিখ। বাংলাদেশে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত এবং সরাসরি চাঁদ দেখার ঘোষণার ভিত্তিতে।
