৯২ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা!

ফেনীর প্রায় সব বিদ্যালয়েই চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র পৌঁছে গেছে। শিক্ষার্থীরা হাতেও পেতে শুরু করেছে। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটেছে ফেনী সদরের বালিগাঁও উচ্চবিদ্যালয়ে। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বোর্ড ফি জমা হয়নি। তাই তাদের পরীক্ষা অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২১ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। তবে বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি এখনো বোর্ডে জমা হয়নি। ওই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ফি ব্যাংকে জমা দেননি। তিনি এ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন।

বিদ্যালয়টি ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত। চলতি বছর এই বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার মোট ৯২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিস ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার্থীদের বোর্ড ফি বাবদ ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের দেওয়া টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল স্কুলের অফিস সহকারী মিহির চন্দ্র শীলকে। কিন্তু তিনি টাকা জমা দেননি। শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র না আসায় বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার থেকে ওই অফিস সহকারী বিদ্যালয়ে আসছেন না।

প্রবেশপত্র না আসার বিষয়টি সামনে আসার পর বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে জরুরি সভা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দ্রুত বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে যান। তবে প্রবেশপত্র পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অফিস সহকারী মিহির চন্দ্র শীলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁর মুঠোফোনেও কল করা হয়, তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বোর্ড ফি জমা দেওয়ার দায়িত্ব অফিস সহকারীর ওপর ছিল। তিনি টাকা জমা দেননি। তবে তাঁর সঙ্গে কিছুদিন ধরে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দ্রুত পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বোর্ড ফির টাকা জমা দেওয়া হয়েছে কি না, তখন কেন তদারকি করা হয়নি, এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম।

ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুলতানা নাসরিন বলেন, বোর্ড ফি জমা না হওয়ার বিষয়টি তাঁকে আগে জানানো হয়নি। বিষয়টি জানার পর বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত প্রবেশপত্র নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *