ভোটের আগে এক নেতার ‘গোপন ভিডিও’ ফাঁস

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যের আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের একটি ‘গোপন’ ভিডিও প্রকাশ করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

রাজ্য শাসক দলের দাবি, মুসলিম ভোট ভাগ করে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার গোপন চুক্তি করেছেন হুমায়ুন। যদিও এই ভিডিওকে সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি বলে দাবি করে পাল্টা আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই নেতা।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ১৯ মিনিটের ওই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আনা হয়। ভিডিওর দৃশ্যপটে হুমায়ুন কবীরকে দেখা গেলেও অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিদের দেখা যায়নি।

ওই ভিডিওতে হুমায়ুনকে দাবি করতে শোনা যায়, আসন্ন নির্বাচনে মুসলিম ভোট ব্যাংক তৃণমূলের থেকে সরিয়ে আনতে পারলে হিন্দু ভোট সরাসরি বিজেপির দিকে যাবে।

ভিডিওতে তিনি এক হাজার কোটি টাকা দাবির পাশাপাশি দ্রুত ২০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলছেন।

এছাড়াও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নাম উল্লেখ করে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আসন সমঝোতার বিষয়ে তাকে ভিডিওতে বলতে শোনা গেছে।

সরকার গঠনে তিনি বিজেপিকে সমর্থন দেবেন এবং বিনিময়ে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ পাবেন বলে সমঝোতা হয়েছে বলেও উল্লেখ হুমায়ুন।

ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, বাবরি মসজিদ নির্মাণের আবেগকে ব্যবহার করে তিনি মুসলিম ভোট নিজের ঝুঁলিতে ভরবেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা এবং নিম্নশ্রেণির ভোটারদের ‘কৌশলে’ নিজেদের দিকে টানার বিস্তারিত ছকও ওই ভিডিওতে উঠে এসেছে।

তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বোকা বানিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনাই হুমায়ুনের আসল লক্ষ্য।

এই ভিডিও ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র এবং ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

তার দাবি, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তার সম্মানহানি করার চেষ্টা চলছে। ২০১৯ সালের পর বিজেপির কোনও নেতার সঙ্গে তার সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি বলে দাবি করে তিনি তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

হাজার কোটি নয়, ১ কোটি টাকার চুক্তির প্রমাণ দিলেও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন হুমায়ুন। আপাতত এই ‘স্টিং ভিডিও’ এবং এআই বিতর্কে সরগরম পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের ময়দান।

উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মোট ২৯৪টি আসনের জন্য এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *